সূচিপত্র

নমস্কার আপনাদের সবাইকে স্বাগত আজকে আলোচনা করব  । শিখন বা লার্নিং কী? শিখন সম্পর্কে বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা কী সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং শিখনের বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী তা নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব |চলুন তাহলে শুরু করা যাক। শিখন বা লার্নিং এই শিক্ষণ টা কি শিখন মনে হল শেখা মানুষ কেমন করে শিখে? কারণ শিখুন প্রক্রিয়াটি সঠিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারলে কিছু সঠিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে

যেমন কী শেখাব বা কোন পদ্ধতিতে শেখাব বা কী ভাবে মানুষ কম সময়ে কম পরিশ্রম করে অনেক বেশি শিখতে পারবেন।

শিখন কাকে বলে

শিখন কাকে বলে

ব্যক্তি বা শিশুর জন্মলগ্ন থেকে তার পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি বিধান করেন। পরিবেশের সঙ্গে ব্যক্তির প্রতিনিয়ত একটি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ঘটতে থাকে, যার ফলে ব্যক্তি আচরণের পরিবর্তন হয়। প্রতিটি শিশুর জীবনে এই দুই শক্তির মধ্যে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম চলছে। তাই মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ তাঁর দৈহিক ও মানসিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। মানুষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বা লক্ষ্যবস্তু লাভের উদ্দেশ্যে মানুষ যে বিভিন্ন ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে সেই কৌশলই হল শিখন।

অর্থাৎ শিখন হল এমন এক কৌশল। যার মাধ্যমে মানুষ তার চাহিদা পূরণে সক্ষম হয় ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এক কথায় যদি বলা যায় শিখন কি অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের প্রভাবে আচরণ প্র ধারার পরিবর্তনের প্রক্রিয়াই হল শিখন জিনিস। মনে রাখতে হবে শিখন এবং শিক্ষণ এই 2 বিষয় কিন্তু আলাদা।

এবার আমরা শিখন এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব

  • 1) অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রক্রিয়া: শিক্ষণ আচরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে সাহায্য করে ।
  • 2) উদ্দেশ্য মুখী: শিখন এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে মানুষ তার অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বা চাহিদার সাহায্যে উদ্দেশ্য মুখী আচরণ সম্পন্ন করতে সচেষ্ট হয়, যা শিক্ষার্থীকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
  • 3) অভিযোজনমূলক: দৈনন্দিন জীবনে ব্যক্তিকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শিখণ ব্যক্তিকে পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করতে সাহায্য করে ও শিখন লব্ধ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা ব্যক্তিকে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে
  • 4) বিকাশমান: শিখন লব্ধ জ্ঞান ব্যক্তিকে ক্রমশ সমৃদ্ধ করে তোলে, যা পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করে আরও উন্নত করতে সাহায্য করে, তাই শিখনকে ক্রমবিকাশমান প্রক্রিয়া বলা যায়।
  • 5) পূর্ব অভিজ্ঞতা: ভিত্তিক শিখনের মূল ভিত্তি হল অতীত অভিজ্ঞতা যে কোনও সেখানে আচরণে যে পরিবর্তন হয় তা পূর্ব অভিজ্ঞতার ফলশ্রুতি, শিখন হল অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন পরিস্থিতিতে যথাযথ ভাবে কার্য সম্পাদন করতে সাহায্য করে।
  • 6) চাহিদা নির্ভর: শিখণ চাহিদার উপর নির্ভর করে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কিছুর চাহিদা অনুভব করে, তখন তার চাহিদা মেটানোর জন্য নানা ধরনের উদ্দেশ্যমূলক আচরণ করে যা ব্যক্তিকে চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। অর্থাৎ চাহিদা নিষ্পত্তি শিশুর শিখন কার্য সম্পন্ন করে এই চাহিদা ব্যক্তিগত হতে পারে। আবার সমাজ প্রত্যাশিত হতে পারে। যেমন আত্মরক্ষার চাহিদার জন্য আত্মরক্ষার কৌশল শিখে গানের চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে থাকি৷ আবার সামাজিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সামাজিক রীতি নীতি আচার আচরণ শেখে
  • 7)সক্রিয় প্রতিক্রিয়া: শিখনের জন্য প্রাণীকে সক্রিয় হতে হয়। তাই শিখন একটি সক্রিয় প্রতিক্রিয়া প্রাণী যদি না সক্রিয় হয় তাহলে শিখন সম্ভব নয়।
  • 8) অনুশীলন সাপেক্ষ: শিখনের জন্য অনুশীলনের প্রয়োজন। পুরানো আচরণকে বাদ দিয়ে নতুন আচরণ আয়ত্ত করার জন্য শিশুকে বারবার অনুশীলন করতে হয়। নতুন আচরণের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য যেমন শিশু যখন নতুন বিষয় শিখে, তখন সেই বিষয়টিকে শেখার জন্য বারবার সেই অংশটিকে অনুশীলন করতে হয়, যার দ্বারা সে নতুন বিষয় শিখতে পারে?।
  • 9) ব্যক্তি নির্ভরতা :শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যক্তির উপর নির্ভর করে?। শিশু যখন নতুন কিছু শেখে বা নতুন কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়। তখন সে তার অতীত অভিজ্ঞতাও প্রশিক্ষণের উপর নির্ভর করে আচরণের পরিবর্তন ঘটায়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কী ধরনের আচরণ করবে শিশুরা নিজেই ঠিক করে নেয় এবং নতুন আচরণ সম্পাদন করেন।
  • 10) সঞ্চালন মূলক: শিখন একটি সঞ্চালন মূলক প্রক্রিয়া। একটি বিষয় শেখানোর ফলাফল পরবর্তী বিষয় শিক্ষা সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করে। যেমন বিদ্যালয়ের শিক্ষাগ্রহণের সময় অনেক নতুন নতুন আচরণ আয়ত্ত করে এবং পরবর্তীকালে সেগুলিকে তাঁরা পরিবার বা সমাজের অন্য কোনো পরিস্থিতিতে সঞ্চালিত করেন। যেমন বিদ্যালয়, তাঁকে বলা হল, আমরা যখন বিদ্যালয়ে শেখানো হল যে খাওয়ার আগে অবশ্যই ভাল করে হাত মুখ ধুয়ে তারপর খেতে হয় যখন বাড়িতে এসে সেটা শেখার পরে বাড়িতে যখন এসে খেতে বসেছি, তখন তো সেটা মনে হলো যে আমরা শিখেছি। শিক্ষক মশাই আমাদের শিখিয়েছে হাত মুখ ভালো করে ধুয়ে তার পর খেতে হয় তখন সে তার সেই অভ্যাসটা হাত মুখ ধুয়ে তারপর খাওয়া শুরু করে।

শিখনের স্তর গুলি কি কি

শিখনের তিনটি স্তর বা পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে

শিখনের কয়টি স্তর বা পর্যায় :

  • 1. সংরক্ষণ :
  • 2. পুনরুদ্রেক :
  • 3.প্রত‍্যাভিজ্ঞা :

এই স্তর বা পর্যায় গুলি ক্রমান্বয়ে সংগঠিত হয়ে শিখনকে সম্পূর্ণ করে তোলে।

শিখনের প্রথম স্তর কোনটি

শিখনের প্রথম স্তর সংরক্ষণ

শিখনের দ্বিতীয় স্তর কোনটি | শিখনের দ্বিতীয় স্তর এর নাম কি

শিখনের দ্বিতীয় স্তর পুনরুদ্রেক

শিখনের তৃতীয় স্তর কোনটি

শিখনের তৃতীয় স্তর বা শেষ স্তর প্রত্যাভিজ্ঞা।

শিখনের শেষ স্তর কোনটি

শিখনের তৃতীয় স্তর বা শেষ স্তর প্রত্যাভিজ্ঞা।

শিখন ও শিক্ষণ এর মধ্যে পার্থক্য

শিখন এবং শিক্ষণের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে:

শিখন হল শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া। আর শিক্ষণ হল শিক্ষকের পক্ষ থেকে জ্ঞান প্রদানের প্রক্রিয়া।

শিখন শিক্ষার্থীর ইচ্ছাকৃত, সক্রিয় ও অংশগ্রহণমূলক। আর শিক্ষণ হল শিক্ষকের উদ্দেশ্যমূলক কাজ।

শিখনের উদ্দেশ্য হল জ্ঞান, দক্ষতা এবং মনোভাব অর্জন। আর শিক্ষণের উদ্দেশ্য হল এসব অর্জনে সহায়তা করা।

শিখন মূলত শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী হয় এবং ব্যক্তিগত হয়। শিক্ষণ হল সাধারণত সামাজিক প্রয়োজন অনুযায়ী।

শিখন একটি অপরিহার্য উত্তরণমূলক প্রক্রিয়া। শিক্ষণ পরিকল্পিত এবং সিদ্ধান্তগত।

শিখনের ফলাফল দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর। আর শিক্ষণের ফলাফল সীমাবদ্ধ এবং সাময়িক হতে পারে।


>কম্পিউটার সহযোগী শিখন হল


কম্পিউটার সহযোগী শিখন হল কম্পিউটার সহযোগী শিখন (Computer Assisted Learning) হল এমন শিখন যেখানে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার সফ্টওয়্যার এবং টেকনোলজির সাহায্য নিয়ে শিখে।

শিখনের নীতি গুলি আলোচনা কর

শিখনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতি:

  • ১) শিখন অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত: শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
  • ২) আগের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করা দরকার: নতুন জ্ঞান পূর্ব-অর্জিত জ্ঞানের উপর ভিত্তি করতে হবে।
  • ৩) শিখনকে প্রয়োজনে ভিত্তি করা: যা শেখানো হচ্ছে তা প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ।
  • ৪) বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিখন: বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্তি রাখা।
  • ৫) প্রতিক্রিয়ামূলক শিখন: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রদান করা।
  • ৬) বিভিন্ন শিখন শৈলীর প্রতি মনোযোগ দেওয়া: প্রত্যেকের শিখন পদ্ধতি ভিন্ন।
  • ৭) উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি: শিখনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।

শিখন কি ধরনের প্রক্রিয়া

শিখন মূলত দুই ধরনের প্রক্রিয়া:

1. অবজ্ঞানগত শিখন (Implicit Learning):

এটি স্বাভাবিকভাবে ঘটে যায়।

এর মাধ্যমে আমরা পরিবেশের সাড়া দেই।

এটি সহজ, দ্রুত এবং অবচেতন।

উদাহরণ ভাষা শেখা, সামাজিক আচরণ শেখা।

2. সচেতন শিখন (Explicit Learning):

এটি ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যমূলক।

এর জন্য প্রচেষ্টা ও মনোযোগ প্রয়োজন।

এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।

উদাহরণ পড়াশোনা করা, কোনও কলা শেখা।

সারাংশে, শিখনের উভয় প্রকার গুরুত্বপূর্ণ এবং পরস্পর পরিপূরক। একটি সম্পূর্ণ শিক্ষার জন্য উভয়েরই প্রয়োজন।

শিখন অক্ষমতা কি

শিখন অক্ষমতা হল এমন একটি অসুবিধা যার ফলে কোনও ব্যক্তির শিখন ক্ষমতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। শিখন অক্ষমতার কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

পঠন বুঝতে বা শেখার সমস্যা: পঠিত বিষয়বস্তু বুঝতে অথবা নতুন ধারণা শেখার সময় কঠিনতা হয়।

কাজের নির্দেশ বুঝতে সমস্যা: কাজের নির্দেশাবলী বুঝতে বা মনে রাখতে অসুবিধা হয়।

দক্ষতা শেখার সময় কঠিন হয়: নতুন কৌশল বা দক্ষতা শেখার সময় অনেক বেশি সময় লাগে।

দীর্ঘস্মৃতির সমস্যা: শেখা বিষয়বস্তু দীর্ঘমেয়াদে মনে রাখতে সমস্যা হয়।

ধারণা বা বিষয়বস্তু সংগঠিত করতে অসুবিধা: শেখা বিষয়বস্তু সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করতে সমস্যা হয়।

দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থতার অনুভূতি: নতুন জ্ঞান বা দক্ষতা শেখার সময় ব্যর্থতার অনুভূতি হতে পারে।

4.5 / 5

- (24 votes)