
সমাজ কাকে বলে
সমাজ মানুষের একটি সংঘবদ্ধ ও সংযোগিত গোষ্ঠীকে বোঝায়, যা সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একত্রিত হয়। এটি মানব জীবনে সামাজিক সংক্রিয়া এবং সামাজিক সম্পর্কের একটি মৌলিক ঘটক হতে সম্ভব। সমাজের সদস্যরা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে, সামাজিক নীতি ও মানদণ্ড বেঁধে, এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠা তৈরি করে। সমাজের বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানব সমাজ গড়ে আসে।
সমাজ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি
সমাজ বিজ্ঞানে সমাজ বিভিন্ন দিকে বিভক্ত করা হয় এবং সাধারণভাবে সমাজ তিনটি প্রধান প্রকারে বিভক্ত করা হয়:
১. প্রাইমিটিভ সমাজ (Primitive Society):
- এই সমাজগুলি সাধারণভাবে প্রাচীন সময়ে উৎপন্ন হয় এবং কৃষি বা প্রযুক্তির আগমনের আগে থাকতে পারে।
- সদস্যরা আমন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ে বৃদ্ধি পেতেন এবং প্রাচীন আদর্শ ও প্রথার মৌলিক অনুসরণ করতেন।
২. উন্নত সমাজ (Advanced Society):
- এই সমাজগুলি প্রযুক্তির উন্নতি, শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক প্রগতি এবং স্থায়িত সমাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত।
- সদস্যরা সামাজিক চুক্তি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যবস্থা করতেন।
৩. আধুনিক সমাজ (Modern Society):
- আধুনিক সমাজগুলি বৈজ্ঞানিক প্রগতি, প্রযুক্তিগত উন্নতি, সামাজিক মাধ্যমের উন্নতি, বৈদেশিক সম্পর্কের বৃদ্ধি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সমাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে।
- সদস্যরা পৃথিবীজুড়ে ব্যবস্থা করতেন এবং বৈদেশিক বিনিময় সম্পর্ক রক্ষা করতেন।
এই তিনটি প্রধান সমাজের মধ্যে বৈচিত্র্য আছে এবং তাদের চরিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে। সমাজ বিজ্ঞানে সাধারণভাবে এই তিনটি প্রকারের সমাজ চিন্তনা করা হয়, তবে এই প্রকারের সমাজের আরও বিভিন্ন উপ-ক্লাসিফিকেশন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকার রয়েছে।
সমাজ কাকে বলে সমাজের বৈশিষ্ট্য
সমাজের বৈশিষ্ট্য বোঝানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লিখিত হতে পারে:
- 1. ঐক্য (Unity): সমাজের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো সদস্যরা একত্রে যোগাযোগ করে এবং সামাজিক ঐক্য তৈরি করে। এই ঐক্যের মাধ্যমে সমাজ একত্রিত থাকে এবং সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সাধন করতে সক্ষম হয়।
- 2. সাধারণ উদ্দেশ্য (Common Goals): সমাজের সদস্যরা সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য একসাথে কাজ করে। এই উদ্দেশ্যগুলি অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, সুরক্ষা, বাসস্থানের নিরাপত্তা ইত্যাদি হতে পারে।
- 3. স্থায়িত্ব (Stability): সমাজ একটি স্থায়ী বৈশিষ্ট্য প্রদান করে, যা অর্থ এই নয় যে, সমাজের পরিবর্তন হবে না, তার মাধ্যমে সমাজের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় না।
- 4. গোষ্ঠী (Groups): সমাজে বিভিন্ন ধরণের গোষ্ঠী বা সমুদায় থাকে যা আলাদা-আলাদা উদ্দেশ্য সাধন করে এবং সমাজের বিভিন্ন দিকে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ইত্যাদি বিভিন্ন গোষ্ঠী সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি করে।
- 5. ভৌগলিক সীমারেখা (Geographical Boundary): সমাজের সাথে ভূখণ্ডের সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে কোন কোন সমাজ সারা পৃথিবীজুড়ে বিরাজমান হতে পারে। সমাজের ভৌগলিক সীমারেখা সমাজের বাস্তবিক অধ্যয়ন ও গবেষণার সাথে জড়িত।
সমাজের বৈশিষ্ট্যগুলি আমাদের সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সামাজিক গঠন ও প্রথা তৈরি করে।
- সমাজ কাকে বলে ক্লাস 4
- সমাজ কাকে বলে class 5
- সমাজ কাকে বলে class 3
- সমাজ কাকে বলে ক্লাস ৩
- সমাজ কাকে বলে উত্তর
- সমাজ কাকে বলে ক্লাস ২
- সমাজ কাকে বলে বাংলা
- সমাজ কাকে বলে ৩য় শ্রেণি
- সমাজ কাকে বলে ক্লাস ৬
- (24 votes)
0 মন্তব্যসমূহ