সূচিপত্র

উদ্ভিদের চলন

উদ্ভিদের চলন কাকে বলে উদ্ভিদের চলন এর প্রকারভেদ

বন্ধুগন আমার ব্লগে ভিজিট করার জন্য আপনাকে অনেক স্বাগত। আজ আমরা জানবো উদ্ভিদ এর চলন সম্পর্কে সমস্ত তথ্য, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করব তাই ধৈর্য ধরে এই ব্লক পোস্টটি পড়ুন। এবং জানুন উদ্ভিদ এর চলন এর সমস্ত তথ্য।

ভলভক্স ইত্যাদির মতো নিম্ন শ্রেণীর কিছু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সিলিয়া ফ্লাজেলা ইত্যাদির মত গমনাঙ্গ থাকে। এগুলির সাহায্যে এধরনের উদ্ভিদ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে। বেশিরভাগ উচ্চ শ্রেণীর উদ্ভিদের ক্ষেত্রে কোন গমন অঙ্গ থাকে না এরা এক জায়গায় আবদ্ধ থেকে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে অর্থাৎ উন্নত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে চলন হলেও গমন হয় না।

চলন কাকে বলে

আসুন বন্ধুরা চলন কাকে বলে এই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক। আমরা সাধারণত চলন বলার জন্য উঠেছে চলকেই জেনে থাকি, তাই চলুন এর সমস্ত কিছু ধীরে ধীরে আলোচনা করছি।

এক জায়গায় আবদ্ধ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করাকেই আমরা সাধারণত চলন বলে থাকি।

উদ্ভিদের চলনের প্রকারভেদ

উদ্ভিদের তিন রকমের

  1. ট্যকটিক চলন
  2. ট্রপিক চলন
  3. ন্যাস্টিক চলন

ট্যকটিক চলন কাকে বলে

যে চলনে বাইরের কোন উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা অঙ্গের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়ে থাকে তাকে ট্যকটিক চলন বলে।

ট্যকটিক চলন কয় প্রকার ও কি কি উদাহরণ দাও।

একটি চলন প্রথমত চার প্রকার সমস্ত ট্যকটিক চলন নিচে উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো

ফটোট্যকটিক চলন কাকে বলে

আলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অল্প আলোর দিকে ভলভক্স শৈবালের যাওয়া কিন্তু তীব্র আলো থেকে দূরে সরে যাওয়া এটি একটি ফটোট্যকটিক চলন

উপরিক্ত উদাহরণ থেকে আমরা জানতে পারলাম যে ফটো একটি চলন কাকে বলে এবং তার সম্বন্ধে সাধারণ ধারণা আমাদের অর্জন হল।

থার্মোট্যকটিক চলন কাকে বলে।

উষ্ণতার প্রভাবে যখন কোন উদ্ভিদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাচ্ছে তাকে থার্মোট্যকটিক চলন বলে।

উদাহরণ: শৈবালের চলন

কেমোট্যকটিক চলন কাকে বলে।

বিভিন্ন বাহ্যিক উদ্দীপক এবং রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে যখন কোন উদ্ভিদ অঙ্গ একসাথে অন্যস্থানে স্থানান্তরিত হয় তাকে কেমোট্যকটিক চলন বলে।

উদাহরণ : উদ্ভিদের শুক্রাণু ম্যালিক এসিডের প্রভাবের ডিম্বাণুর দিকে যাওয়া।

হাইড্রোট্যকটিক চলন কাকে বলে

যখন জলের প্রভাবে কোন একুশে শৈবাল একটি জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হয় তখন তাকে হাইড্রো ট্যাকটিক চলন বলে

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় কিছু এক কোসে ছয়বার শুকনো জায়গা থেকে ভিজে জায়গা দিকে যাওয়া প্রবণতা

ট্রপিক চলন কাকে বলে

উদ্ভিদের স্থায়ী অঙ্গের অভীষ্ট বক্র চলন যখন উদ্দীপকের উৎস অভিমুখে অথবা উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে হয় তখন সেই চলনকে ট্রপিক চলন বলে।

ট্রপিক চরণ কয় প্রকার ও কি কি আলোচনা কর উদাহরণসহ

ট্রপিক চলন প্রধানত তিন প্রকার সেই প্রকারভেদ গুলি নিম্ন আলোচনা করা হলো।

ফটোট্রপিক চলন কাকে বলে

উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা আলোর রশ্মির গতিপথ বা উৎসের দিকে সঞ্চালিত হওয়াকে ফটোট্রপিক চলন বলে।

হাইড্রোট্রপিক চলন কাকে বলে

উদ্ভিদের মূলের জলের উৎসের দিকে যাওয়াকে হাইড্রোট্রপিক চলন বলে।

জিও ট্রপিক চলন কাকে বলে

উদ্ভিদের প্রধানমূলের পৃথিবী ভরকেন্দ্রের দিকে যাওয়াকে জিও ট্রপিক চলন বলে।

হেলিওট্রপিক চলন কাকে বলে

কিছু গাছপালা সূর্যের অভিমুখে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এদেরকে হেলিওট্রপিক চলন কাকে বলে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে আলোর ভাবে পাতা চলনকে হেলিওট্রপিক চলন বলে

ন্যাস্টিক চলন কাকে বলে

উদ্ভিদের স্থায়ী অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলন যখন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে না হয়ে উদ্দীপকের তীব্রতা অনুসারে হয় তখন তাকে ন্যাস্টিক চলন বলে।

ন্যাসটিক চলন কয় প্রকার এবং কি কি উদাহরণসহ আলোচনা কর।

স্পর্শ মাত্রই লজ্জাবতী গাছের পাতার পত্র গুলি বুঝে যাওয়া শেষ সিসমোন্যাসটিক চলন এর উদাহরণ।

তীব্র আলোকে টিউলিপ ফুলের ফোটা ফটোন্যাস্টিক চলনে উদাহরণ

অত্যাধিক উষ্ণতায় শিম গাছের পাতা মুড়ে যাওয়া থার্মোনাস্টিক চলন এর উদাহরণ

দিনের বেলা আলো তাপের কবে বাবলা আছে পাতা মুড়ে যাওয়ার নিকটিন্যাস্টিক চলন এর উদাহরণ।

উপরে উক্ত আলোচনা থেকে আমরা উদ্ভিদের চলন সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেলাম। এবার উদ্ভিদের আরো কিছু বিশেষ চলন এর প্রক্রিয়াগুলি নিম্নে আমরা আলোচনা করব তাই অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি পড়ুন।

উদ্ভিদের শাখা প্রশাখা আলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আলোর উৎসের দিকে সঞ্চালিত হয় একে পজেটিভ ফটোট্রপিক চলন বলে।

সুন্দরী গাছের মূল মাটির উপরে উঠে চলে আসে অভিকর্ষের বিপরীত মুখে একে নেগেটিভ জিও ট্রপিক চলন বলা হয়।

উপরে তো আলোচনা থেকে আমরা শুধুমাত্র উদ্ভিদের চলন নয় আরো বিশেষ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেলাম এবং এই উপরির আলোচনায় যদি কোন রকম ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন বা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন আমরা অবশ্যই সেটিকে সঠিক করব যাতে পরবর্তী পড়ুয়া রা সঠিক ইনফরমেশন পাই।

4.5 / 5

- (24 votes)